বুধবার, ২৫ মার্চ ২০২৬, ১০:১৪ অপরাহ্ন

শিরোনামঃ

বুড়িমারীতে সিলোকোসিসে আক্রান্ত হয়ে পাথর শ্রমিকের মৃত্যু

লালমনিরহাট প্রতিনিধি::

লালমনিরহাটের বুড়িমারীতে সিলোকোসিসে আক্রান্ত হয়ে আমিনুর রহমান (৩৫) নামে আরো এক পাথর শ্রমিকের মৃত্যু হয়েছে।

সোমবার (২৪ ফেব্রুয়ারী) সকালে পাটগ্রাম থানা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে তার মৃত্যু হয়। তিনি ওই গ্রামের কাচু বাউয়ের ছেলে।

মৃত শ্রমিক আমিনুর রহমানের ভাই সামিউল ইসলাম জানান, দীর্ঘদিন পাথর শ্রমিকের কাজ করতেন আমিনুর রহমান। পেটের দায়ে পাথর ক্রাশিং কারখানায় কাজ করার একপর্যায়ে সিলোকোসিস রোগে আক্রান্ত হন তিনি। পরে পরিবারের পক্ষ থেকে তাকে পাটগ্রাম উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, ঢাকা বক্ষব্যাধি হাসপাতাল ও রংপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে দীর্ঘদিন চিকিৎসা করেন। কিন্তু সংসারের সঞ্চিত অর্থ ও বসতভিটা বিক্রি করে চিকিৎসা করার পরেও উন্নতি না হয়ে দিন দিন অবনতি ঘটে।

গত ১৫ ফেব্রুয়ারী সিলোকোসিসে আক্রান্ত হয়ে মারা যান বুড়িমারী পাথর শ্রমিক সুরক্ষা কমিটির সভাপতি মমিন মিয়া। যিনি আহত শ্রমিকদের চিকিৎসাসহ বিভিন্ন দাবি নিয়ে দীর্ঘদিন কাজ করেছেন। তার মাধ্যমে বুড়িমারীর পাথর শ্রমিকরা বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব লেবার স্টাডিজের(বিলস) এর মাধ্যমে ঢাকা বক্ষবেধি হাসপাতালে চিকিৎসার ব্যবস্থা হয়েছে। তবে এ রোগে আক্রান্ত কোন রোগীই সুস্থ জিবনে ফিরে আসতে পারেনি। বরংচ প্রতিনিয়ত মৃত্যুর মিছিলে যুক্ত হচ্ছেন শ্রমিকরা। এরপরেও থেমে নেই পাথর ক্রাশিং মেশিনের কার্যক্রম। নেই শ্রমিকদের সুরক্ষার কোন ব্যবস্থা।

উল্লেখ্য, ২০০০ সালে ভিক্টরি মোজাইক কোম্পানি নামে ক্র্যাশার মেশিন সর্বপ্রথম বুড়িমারী স্থলবন্দরে স্থাপন করেন। এরপর থেকে বাড়তে থাকে পাথর ক্র্যাশার মেশিনের সংখ্যা। একই সাথে বাড়তে থাকে সিলোকোসিসে শ্রমিক মৃত্যুর সংখ্যাও। বে-সরকারী একটি সুত্রমতে এ পর্যন্ত ৭৩ জন শ্রমিকের মৃত্যু হয়েছে মরনঘাতি সিলোকোসিসে। সর্বশেষ মৃত্যুর মিছিলে যুক্ত হলেন পাথর শ্রমিক আমিনুর রহমান।

সংবাদটি শেয়ার করুন

© All rights reserved © 2024  Ekusharkantho.com
Technical Helped by Curlhost.com